নিমগাছ

নিমগাছ
বনফুল

লেখক-পরিচিতি
প্রকৃত নাম : বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।   ছদ্মনাম : বনফুল।
জন্ম: ১৯ জুলাই, ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ।
শিক্ষা: পূর্ণিয়ার সাহেবগঞ্জ ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১৮ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯২০ সালে সেন্ট কলম্বস কলেজ থেকে আই.এসসি পাশ করেন। ১৯২৭ সালে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেন।
কর্মজীবন: মেডিক্যাল অফিসার বা প্যাথলজিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি।
সাহিত্যসাধনা
উপন্যাস: তৃণখণ্ড, কিছুক্ষণ, দ্বৈরথ, নির্মোক, সে আমি, জঙ্গম, অগ্নি ইত্যাদি। নাটক: শ্রী মধুসূদন, বিদ্যাসাগর প্রভৃতি।  অন্যান্য রচনা: মন্ত্রমুগ্ধ, বিন্দুবিসর্গ, ভীমপলশ্রী।
পুরস্কার ও সম্মানা: বিভিন্ন পুরস্কারসহ তিনি পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন।
মৃত্যু: ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ।

মূলপাঠ
কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে।🔒ব্যাখ্যা
পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ!
কেউবা ভাজছে গরম তেলে।
খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে।
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।🔒ব্যাখ্যা
কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে।
এমনি কাঁচাই ...
কিম্বা ভেজে বেগুন-সহযোগে।
যকৃতের পক্ষে ভারি উপকার।🔒ব্যাখ্যা
কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয়🔒ব্যাখ্যা কত লোক দাঁত ভালো থাকে । কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।🔒ব্যাখ্যা
বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।🔒ব্যাখ্যা
বলে- “নিমের হাওয়া ভালো, 🔒ব্যাখ্যাথাক্, কেটো না৷'
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না।🔒ব্যাখ্যা
আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।🔒ব্যাখ্যা
শান দিয়ে বাঁধিয়েও দেয় কেউ—🔒ব্যাখ্যা সে আর-এক আবর্জনা।🔒ব্যাখ্যা
হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো।🔒ব্যাখ্যা
মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে।🔒ব্যাখ্যা ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু।
বলে উঠল,– ‘বাহ্, কী সুন্দর পাতাগুলি ... কী রূপ ! থোকা থোকা ফুলেরই বা কী বাহার.... একঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে।🔒ব্যাখ্যা বাহ্-' খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল।
কবিরাজ নয়, কবি।🔒ব্যাখ্যা
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়।🔒ব্যাখ্যা কিন্তু পারলে না।🔒ব্যাখ্যা মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। 🔒ব্যাখ্যা বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।
ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা।🔒ব্যাখ্যা
পাঠ-পরিচিতি
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের (বনফুল) অদৃশ্যলোক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ‘নিমগাছ গল্প। এই গল্পের সংক্ষিপ্ত অবয়বের মধ্যে লেখক বিপুল বক্তব্য উপস্থাপনের যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। নিমগাছের বর্ণনা, এর পাতা, বাকল, ছায়ার ইত্যাদির বাহ্যিক উপকারিতা কবিতার মতো বর্ণনা করা হয়েছে এই গল্পে। কবিরাজ তার চিকিৎসার কাজে, সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিক প্রয়োজনে নিমগাছকে অনবরত ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু কেউ এই গাছের সামান্যও যত্ন নেয় না। একজন কবি একদিন নিমগাছের গুণ🔒ব্যাখ্যা ও রূপের প্রশংসা করে। নিমগাছের ভালো লাগে ঐ লোককে এবং সে তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। কিন্তু মাটির গভীরে তার শিকড়। গাছটি যেতে পারে না । আসলে গাছ তো চলতে পারে না। এটি একটি প্রতীকী গল্প । প্রকৃতপক্ষে, ‘নিমগাছ' গল্পটির নিমগাছ প্রতীকের সূত্রে বনফুল দেখিয়েছেন নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ। নারীর মানবিক মর্যাদা, পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব উপলব্ধি করার ইঙ্গিত দেয় গল্পটি।
                                                                                                                 

উত্তর :  বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।

উত্তর :  বনফুলের জন্ম ১৮৯৯ সালে।

উত্তর : বনফুল ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় গল্প লিখতেন।

উত্তর : বনফুল মারা যান ১৯৭৯ সালে।

উত্তর :  ‘অদৃশ্যলোক’ (১৯৪৭) গ্রন্থ থেকে নিমগাছ গল্পটি সংকলন করা হয়েছে?


Score Board
Score Board