সহকারী সম্পাদক: দৈনিক তকবীর, মাসিক বুলবুল। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মাসিক সওগাত। স্টাফ আর্টিস্ট: আকাশবাণী,কলকাতা।সাংবাদিকতা: দৈনিক আজাদ, মাসিক মোহাম্মাদী, দৈনিক কৃষক, দৈনিক ইত্তেহাদ, সাপ্তাহিক প্রবাহ। সাহিত্য স্পাদক : দৈনিক পাকিস্তান (পরবর্তীকালে দৈনিক বাংলা)।
সাহিত্যকর্ম
কাব্যগ্রন্থ: রাত্রি শেষ,ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। গদ্যগ্রন্থ: অরণ্যে নীলিমা, রাণী খালের সাঁকো ইত্যাদি। শিশুতোষ: জ্যোৎস্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, ছুটির দিন দুপুরে।
পুরস্কার ও সম্মাননা: বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১), একুশে পদক(১৯৭৮)। মৃত্যু: ১০ জুলাই, ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ।
মূলপাঠ
আসমানের তারা সাক্ষী🔒ব্যাখ্যা সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি🔒ব্যাখ্যাসাক্ষী সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী🔒ব্যাখ্যা পূবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি মাছরাঙা🔒ব্যাখ্যা আমাকে চেনে🔒ব্যাখ্যা আমি কোনো অভ্যাগত নই খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই🔒ব্যাখ্যা আমি কোনো আগন্তুক নই।🔒ব্যাখ্যা আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি ছিলাম এখানে,🔒ব্যাখ্যা আমি স্বাপ্নিক নিয়মে এখানেই থাকি🔒ব্যাখ্যা আর এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা–🔒ব্যাখ্যা সারা দেশে। আমি কোনো আগন্তুক নই। এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের🔒ব্যাখ্যা পাখিরা আমাকে চেনে 🔒ব্যাখ্যা তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই। 🔒ব্যাখ্যা কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী সাক্ষী তার চিরোল পাতার টলমল শিশির-🔒ব্যাখ্যা সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা নিশিন্দার ছায়া অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী🔒ব্যাখ্যা তার ক্লান্ত চোখের আঁধার-🔒ব্যাখ্যা আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন।🔒ব্যাখ্যা আমি জমিলার মা’র
শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর শুকনো থালা 🔒ব্যাখ্যা সব চিনি সে আমাকে চেনে হাত রাখো বৈঠায় লাঙ্গলে, দেখো আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর।🔒ব্যাখ্যা দেখো মাটিতে আমার গন্ধ,🔒ব্যাখ্যা আমার শরীরে লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।🔒ব্যাখ্যা আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই।🔒ব্যাখ্যা দু’পাশে ধানের ক্ষেত সরু পথ সামনে ধু ধু নদীর কিনার আমার অস্তিত্বে গাঁথা।🔒ব্যাখ্যা আমি এই উধাও নদীর মুগ্ধ এক অবোধ বালক। 🔒ব্যাখ্যা
নিজ গ্রামে কবিকে সবাই আগন্তুক ভাবছে, এ কারণে কবি আসমানের তারাকে সাক্ষী করেছেন।কবি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেখানেই বড় হয়েছেন। সন্ধ্যাবেলায় অথবা রাতে তিনি আকাশের তারা দেখেছেন। তার সেই তারা দেখার কথা জানে আকাশের তারা। তাই তিনি আকশের তারাকে সাক্ষী করেছে।
উত্তর : ‘নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি’ চরণটিতে রাতের গ্রামীণ পরিবেশকে বোঝানো হয়েছে।গ্রামের মানুষ সারাদিন কর্মব্যস্ত থেকে সন্ধ্যা হলেই ঘরে ফেরে। গ্রামে সন্ধ্যা নামলে চারদিক স্তব্ধ হয়ে যায়। পাখির কিচিরমিচির থেমে যায়। কেবল মাঝে মাঝে রাতজাগা পাখির ডাক শোনা যায়। ঝোঁপ-ঝাড়ে জোনাকির মেলা বসে। গভীর রাতের গ্রামীণ প্রকৃতির এ রূপটি তুলে ধরতেই প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
উত্তর :
কবির শৈশব জীবনের অনেকটা সময় জারুল, জামরুল গাছের সংস্পর্শে ছিলেন বলেই উক্ত গাছকে তিনি সাক্ষী করেছেন।‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কবি তাঁর জন্মভূমিকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। শৈশবে তিনি জারুল, জামরুল গাছের সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন। এ গাছ যেমন কবির চেনা, কবিকেও তেমনি এ গাছেরা খুব ভালোভাবে চেনে। তাই কবি জারুল ও জামরুল গাছকে সাক্ষী করেছেন। কেননা তাদের সাক্ষ্যতেই বোঝা যাবে যে তিনি ভিনদেশি নন। এই বাংলার চিরচেনা একজন মানুষ।
উত্তর : মাছরাঙার দৃষ্টি স্থির থাকার কারণ মাছরাঙা পানিতে চলমান মাছ শিকার করে।গ্রামীণ পাখি মাছরাঙা। সাধারণত এরা নদী, খাল, বিল বা পুকুরের পাড়ে বাসা বাঁধে। জলাশয়ের ধারে গাছের ডালে এরা চুপ করে বসে থাকে। দৃষ্টি স্থির থাকে পানির দিকে। ছোট ছোট মাছ সাধারণত পানির ওপরে থাকে। দল বেঁধে বা একা একা চলে, সুযোগ বুঝে চোখের পলকে মাছরাঙা পানিতে ঝাপ দেয়। দক্ষভাবে ঠোঁটে মাছটি গাঁথে। এজন্যই মাছরাঙার দৃষ্টি স্থির থাকে।
উত্তর : কবি বাংলার প্রকৃতিতেই বড় হয়েছেন। তাই মাছরাঙা পাখি কবিকে চেনে। বাংলার চিরসবুজ প্রকৃতির মাঝে কবির আজন্ম বিচরণ। প্রকৃতির মাঝে থাকতে কবি প্রকৃতিরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘ সময় একসাথে থাকার কারণে মাছরাঙা পাখির সাথে তাঁর এক ধরনের আত্মিক সম্পর্কে গড়ে উঠেছে। তিনি যেমন তার প্রাত্যহিক জীবন-পরিবেশে মাছরাঙা পাখিকে দেখেন, তেমনি পাখিটিও কবিকে দেখে। এ কারণেই মাছরাঙা কবিকে চেনে।