আমার দেশ

আমার দেশ
সুফিয়া কামাল

কবি-পরিচিতি
নাম : সুফিয়া কামাল।
জন্ম তারিখ  : ২০শে জুন, ১৯১১ সাল।  জন্মস্থান : শায়েস্তাবাদ, বরিশাল।
পৈতৃক নিবাস  : কুমিল্লা। পিতার নাম : সৈয়দ আবদুল বারী।  মাতার নাম : সাবেরা বেগম।
শিক্ষাজীবন : অনানুষ্ঠানিক ও স্বশিক্ষায় শিক্ষিত।
কর্মজীবন : বাংলা ভাষা চর্চায় তিনি গভীর অনুরাগী ছিলেন। কিছুকাল কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। 
পরবর্তীতে সাহিত্য সাধনা ও নারী আন্দোলনে ব্রতী হন।
সাহিত্যকর্ম কাব্যগ্রন্থ : সাঁঝের মায়া; মায়া কাজল, উদাত্ত পৃথিবী, মন ও জীবন, মৃত্তিকার ঘ্রাণ, প্রশস্তি ও প্রার্থনা।
গল্পগ্রন্থ : কেয়ার কাঁটা।  ভ্রমণকাহিনি  : সোভিয়েতের দিনগুলি।   স্মৃতিকথা  : একাত্তরের ডায়েরী।   শিশুতোষ গ্রন্থ: ইতল বিতল, নওল কিশোরের দরবারে।
পুরস্কার ও সম্মাননা : বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, Women's Federation for World Peace Crest,  নাসির উদ্দীন স্বর্ণপদক, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি পুরস্কার, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার।
জীবনাবসান : ২০শে নভেম্বর, ১৯৯৯ সাল, ঢাকায়।

    মূলপাঠ

সূর্য-ঝলকে! মৌসুমী ফুল ফুটে🔒ব্যাখ্যা
স্নিগ্ধ শরৎ 🔒ব্যাখ্যা আকাশের ছায়া লুটে
পড়ে মাঠভরা ধান্য শীর্ষ পরে
দেশের মাটিতে মানুষের ঘরে ঘরে।
আমার দেশের মাটিতে আমার প্রাণ
নিতি লভে নব জীবনের সন্ধান🔒ব্যাখ্যা
এখানে প্লাবনে নুহের কিতি 🔒ব্যাখ্যা ভাসে
শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে।
জেগেছে নতুন চর-
সেই চরে ফের মানুষেরা সব পাশাপাশি বাঁধে ঘর।
নব অঙ্কুর জাগে—
প্রতি দিবসের সূর্য-আলোকে অন্তর অনুরাগে🔒ব্যাখ্যা
আমার দেশের মাটিতে মেশানো আমার প্রাণের ঘ্রাণ
গৌরবময় জীবনের সম্মান ।
প্রাণ-স্পন্দনে লক্ষ তরুর করে
জীবনপ্রবাহ সঞ্চারি মর্মরে
বক্ষে জাগায়ে আগামী দিনের আশা🔒ব্যাখ্যা
আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা 
 নদীতে নদীতে মিলে হেথা গিয়ে ধায় সাগরের পানে🔒ব্যাখ্যা
মানুষে মানুষে মিলে গিয়ে প্রাণে প্রাণে 🔒ব্যাখ্যা
সূর্য চন্দ্র করে
মৌসুমী ফুলে অঞ্জলি 🔒ব্যাখ্যা ভরে ভরে🔒ব্যাখ্যা
আপন দেশের মাটিতে দাঁড়ায়ে হাসে
সূর্য-ঝলকে ! জীবনের ডাক আসে🔒ব্যাখ্যা
সেই ডাকে দেয় সাড়া
নদী-প্রান্তর পার হয়ে আসে লক্ষ প্রাণের ধারা🔒ব্যাখ্যা
মিলিতে সবার সনে
আমার দেশের মানুষেরা সবে মুক্ত-উদার মনে
আর্ত-ব্যথিত সুধী গুণীজন পাশে
সেবা-সাম্য- প্রীতি বিনিময় আশে
সূর্য-আলোকে আবার এদেশে হাসে
নিতি নবরূপে ভরে ওঠে মন জীবনের আশ্বাসে

                                                                                                                                                                      

উত্তর : কবির কাছে তার দেশের মাটি ও ভাষা মধুর।


উত্তর : প্রতিদিনের সূর্যের আলোতে অন্তরে অনুরাগ সৃষ্টি হয়।

উত্তর :  প্রাণের ঘ্রাণ মাটিতে মেলানো।

উত্তর :  প্লাবনে নুহের কিতি ভাসে।

উত্তর : দেশের মাটিতে প্রাণ জীবনের সন্ধান লাভ করে।

উত্তর :  কপোত অর্থ কবুতর।


উত্তর :
 সূর্যের ঝলকে বা সূর্যের আলো পেয়ে মৌসুমি ফুল ফোটে। মৌসুমি ফুল বলতে বাংলাদেশের সব ফুলকে বোঝানো হয়েছে । কারণ মৌসুম বা ঋতুর পরিবর্তনে আবহাওয়া পরিবর্তিত হয়। একেক মৌসুমে একেক ফুল ফোটে। সবচেয়ে বেশি ফুল ফোটে বসন্তে। প্রায় সব ফুলই সূর্যের আলোয় ফোটে। দু-একটা ফুল সূর্যের আলো ছাড়া ফোটে। মূলত বাকি সব ফুল দিনে ফোটে । আর দিনেই আকাশে সূর্য থাকে। তাই কবি দাবি করেছেন যে, সূর্যের আলোকে মৌসুমি ফুল ফোটে।


উত্তর : দেশপ্রেমের উচ্ছ্বাসে দেশের মাটিতে প্রাণ জীবনের সন্ধান লাভ করে। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। সবুজের সমারোহে আমাদের দেশ প্রকৃতির রানি। প্রকৃতির এত বৈচিত্র্যময় সমাহার আর কোথাও নেই। দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ, মৌসুমি ফুলের বাহার, স্নিগ্ধ শরতের মনোমুগ্ধকর আবেশ আমাদের প্রাণে ছোঁয়া জাগায় । আমাদের দেশের মানুষ কোমল হৃদয়ের অধিকারী। তারা পাশাপাশি ঘর বেঁধে শান্তিতে বসবাস করে। এসব কারণে আমাদের দেশ আমাদের গর্বের বিষয়। এ দেশের মাটি আমাদের অনেক আপন। এ দেশের মাটিতেই আমাদের প্রাণ জীবনের সন্ধান লাভ করে।

উত্তর :  “প্রতি দিবসের সূর্য-আলোকে অন্তর অনুরাগে'- চরণটি দ্বারা দিনের আগমনে মানুষের জীবনধারা ও কর্মানুসারতাকে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকৃতির শত বিপর্যয়ের পরেও মানুষ যখন একটু আশার আলো পায় আনতে কাজে নামে। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যস্ত মানুষ কর্মমুখর তখন পূর্ণ উদ্যমে জীবনের স্বপ্ন দেখে, জীবনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আগমনে শেষ হয় কর্মমুখর দিনের। নিজ নিজ ঘরে ফিরে যায় দিন শুরু করে। ঘর বাঁধে, জমি চাষ করে, ফসল ফলায়। সন্ধ্যার আশান্বিত মানুষজন। আলোচ্য পক্তি দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।

উত্তর :
“নদীতে নদীতে মিলে হেথা গিয়ে ধায় সাগরের পানে”- চরণটি নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি প্রকাশ কর ।বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। ছোট, বড়, মাঝারি আকারের অনেক নদীর বিস্তার এদেশে। কোনো নদীই সীমাবদ্ধ নয়। একটির সঙ্গে আরেকটি মিশেছে। সব নদীই আরেকটি নদীর সঙ্গে যুক্ত। এভাবে যুক্ত হতে হতে গিয়ে মিশেছে সাগরের সঙ্গে। আলোচ্য চরণে এ ভাবই বোঝানো হয়েছে।


উত্তর :
 “মৌসুমী ফুলে অঞ্জলি ভরে” বলতে বাংলাদেশে ফুলের সমাহারকে বোঝানো হয়েছে ।ঋতুভেদে বাংলাদেশে বিভিন্ন ফুল ফোটে। আবার কোনো কোনো ফুল সারা বছর ধরে ফোটে। তবে ফুলের মৌসুম হিসেবে বসন্তকাল বেশি খ্যাত। কারণ এ ঋতুতে এত বেশি ফুল ফোটে যে, যেদিকে তাকানো যায়, সেদিকেই ফুল দেখা যায় । তখন সমগ্র দেশকে ফুলের বাগান মনে হয়। মূলত ফুলের বৈচিত্র্য বাংলার বুকে অনেক বেশি। বৈচিত্র্যময় এই ফুলের সমারোহকেই আলোচ্য চরণে প্রকাশ করা হয়েছে।



Score Board

১) ‘আমার দেশ’ কবিতার রচয়িতা কে?

২) সুফিয়া কামাল কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

৩) সুফিয়া কামাল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

৪) সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?

৫) সুফিয়া কামাল জন্মগ্রহণ করেন?

Score Board